তীব্র হচ্ছে ধলেশ্বরীর ভাঙন

বন্যার ধকলের মধ্যেই কেরানীগঞ্জে তীব্র আকার ধারণ করেছে ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন। এতে তিন গ্রামের কয়েকশ বাড়িঘর, আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে আছে আরো তিন গ্রাম রক্ষাকারী বেড়িবাঁধ। সব হারিয়ে পথে বসলেও কোন সাহায্য সহযোগিতা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত লাকিরচর সরকারি আশ্রয়ন
প্রকল্পটি ভাঙনের কারনে হুমকির মুখে রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের বড় একটা
অংশই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দ্রুত বাধ দেয়া না হলে তীব্র ভাঙনের মুখে
বাকি অংশটুকু অচিরেই নদীর সঙ্গে মিশে যাবে বলে আশঙ্কা করছে এখানকার
বাসিন্দারা।

এছাড়াও নদীর অব্যাহত ভাঙনের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে ধলেশ্বরী সেতুটি।
আশ্রয়ন প্রকল্প ও ধলেশ্বরী সেতুর পাশ থেকে গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে
বালু উত্তোলন করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আশ্রয়ন
প্রকল্পের বাসিন্দারা। নদীর ওই অংশে প্রতিনিয়ত ভাঙলেও বর্ষা মৌসুমে ভাঙন
মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরে লাকিরচর সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৬ সালে এখানে ১৬০টি কানা, দুঃস্থ ও ভূমিহীন পরিবারকে বারান্দাসহ একটি করে বাসা বরাদ্দ দেয় তৎকালীন সরকার। সেই অর্থে ১৬০টি পরিবার সেখানে মাথা গোজার ঠাই পায়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ধলেশ্বরীর ভাঙনে ঘর-দুয়ার হারিয়ে অনেক পরিবার আবারো নি:স্ব হয়ে গেছে। অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।

এবার বন্যার প্রথম ধাক্কাটা পড়ে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের ভাণ্ডারখোলা, ছানারঘাট ও ভেনড্রি ঘাটসহ ৩টি গ্রামে। ধলেশ্বরী নদীর তীব্র স্রোতে এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে তিন গ্রামের কয়েকশ বাড়িঘর, আবাদি জমি। কেউ কেউ আবার আরেক জনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উত্তাল ধলেশ্বরীর তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙ্গে পড়ছে নদীতে।

স্রোতের কারণে নদীতীরবর্তী হযরতপুর ইউনিয়নের হযরতপুর,ঢালিকান্দি ও জগন্নাথপুর-এ ৩টি গ্রাম রক্ষাকারী বেড়িবাঁধের অনেক অংশ ধসে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে
যেকোন সময় বিলীন হতে পারে গ্রাম তিনটি।

বছরের পর বছর অবৈধভাবে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বালু তোলায় ধলেশ্বরী নদী বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তাসহ
ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সরকারি সহায়তা না পেয়ে জানমাল বাঁচাতে নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধরক্ষার চেষ্টা করছেন বলে জানান নদীতীরের মানুষ।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author