অসন্তুষ্টি নিয়েই চলছে চামড়া বেচাকেনা

রাজধানীতে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ক্রেতা-বিক্রেতারা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে চামড়া কেনার অভিযোগ করেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

শুধু ঈদুল আজহার দিনেই রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার দৃশ্যপট বদলে যায়। এলাকাটি পরিণত হয় রীতিমতো চামড়ার হাটে। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা চামড়া এখানে নিয়ে আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। চলে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি আর লেনদেন।

শনিবার (১ আগস্ট) ঈদের দিন সায়েন্স ল‌্যাবে গিয়ে দেখা গেছে, মান ও আকার ভেদে বেপারিরা প্রতিটি গরুর চামড়া দাম হাঁকছেন ৪০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত। খাসির চামড়া ৪০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২০ টাকা দাম দিতে যাচ্ছেন বেপারিরা।

এ বছর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ থেকে
৪০ টাকা। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর ২৮ থেকে ৩২ টাকা। গত
বছর ঢাকায় দর ছিল ৪৫-৫০ টাকা প্রতি বর্গফুট। এ বছর দাম কমানো হয়েছে প্রায়
২৯ শতাংশ। ঢাকার বাইরে গত বছর গরুর চামড়ার দর ছিল ৩৫-৪০ টাকা প্রতি
বর্গফুট, যা এবারে কমানো হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ও কাঁচা চামড়া এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চাহিদা কেমন হতে পারে তার সঙ্গে বর্তমান মজুদ বিবেচনা করে এবারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা সবদিকে নজর রেখে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে রফতানি কমে গেছে। এবারে সব বিষয় বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দরকারে এবার কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ রাখা হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সেজন্য কমিটি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লবণ না লাগিয়ে চামড়া যেন ঢাকায় না পাঠানো হয়, সে ব্যাপারে প্রচার চালানো হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বছরও চামড়ার ব্যবসা খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ফুটের হিসেব না বুঝেই চামড়া কিনেছেন বলেও জানান তারা।

তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author