ভাঙ্গনের কবলে চাপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা

এমনিতেই পদ্মার ভাঙ্গনে নাকাল অবস্থা, তারউপর তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে মহানন্দায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর এলাকায় ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে দেড় কিলোমিটার এলাকা।  গ্রাস করা শুরু
হয়েছে বসতবাড়ী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বৃষ্টির পানি আর উজানের ঢল হুমকিতে ফেলেছে
কয়েক’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদীর
তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।

একদিকে নদী
ভাঙ্গন অন্যদিকে টানা বৃষ্টি,দুইয়ে মিলিয়ে স্বামীহারা আম্বিয়া বেগমের চোখে-মূখে এখন ঘোর অন্ধকার। অসহায় আম্বিয়ার ক্রন্দনে ভারী
হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর এলাকার মহানন্দা নদীর পাড়। শেষসম্বল
ভিটেটুকু নিয়ে দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে তার। কোন আশ্রয়স্থল
তো নেই,
তারউপর বসতঘরসহ নিজেদের জীবনটাই না জানি কখন তলিয়ে
যায় মহানন্দার রাক্ষুসে থাবায়। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে পদ্মা আর মহানন্দার ৭টি পয়েন্ট।

শেখ হাসিনা সেতু
নির্মাণসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে সড়ক আর অবকাঠামোর। নদী
ভাঙ্গনের প্রকোপ সামাল দিতে না পারলে ভেস্তে যাবে সরকারের সকল উন্নয়ন এমনটি বলছেন জনপ্রতিনিধিরা।

বন্যার পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙ্গনের করাল গ্রাসে পড়বে পদ্মা আর মহানন্দা নদীর মোহনা। এতে হুমকীতে পড়বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা
জানান, জেলার তিন নদীতে পানি বৃদ্ধিও কারণে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৩০০ হেক্টর
জমির বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে, মাসকলাই,
শাক-সবজি, হলুদ, ধান, পেয়ারা, বোরই, কলা প্রভৃতি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু বিস্তীর্ণ এলাকার ভাঙ্গন রোধে অর্থ বরাদ্দের প্রতীক্ষা শেষ হচ্ছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে ভারি বর্ষণ না হলে পানি আস্তে আস্তে নেমে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

চলতি মৌসুমে পদ্মা
ও মহানন্দা নদীর তীরবর্তী অন্তত ৩৩টি পয়েন্ট ভাঙ্গনের কবলে পড়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author