পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা আজ শনিবার (১ আগস্ট)। বৈশ্বিক করোনা মহামারির মধ্যে ভিন্ন মাত্রা ও আবহে এ বছর আসছে এই ঈদ। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাব ঈদ পালনের অনুষঙ্গগুলোর ছন্দপতন ঘটাচ্ছে।

সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসলমানরা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে, করোনা থেকে মুক্তি ও দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট, সাড়ে ১০টা এবং বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আরও তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সবাইকে নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায়ের আহবান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সকালে নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করবে মুসলমানরা। রোজার ঈদের মতোই এবারো নামাজ পড়তে হবে শুধু মসজিদে।

করোনা
মহামারীর কারণে এক ভিন্ন আবহে উদযাপিত হতে যাচ্ছে এবারের ঈদ। অন্যান্য বছর
সব শ্রেণির মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের পর কোলাকুলি করে ঈদের
শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির পর সেই মাংস আত্মীয়-স্বজন ও
গরীবদের মাঝে বিলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন সবাই। তবে এবার
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কড়াকড়ি ও নানা বিধি-নিষেধের জন্য ঈদের আনন্দে অনেকটাই
ভাটা পড়েছে। এছাড়া বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতেও এবার ঈদের আয়োজন নেই।

রোজার ঈদের মতোই কোরবানির নামাজও হবে শুধু মসজিদে। ঈদের
জামাতে মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না, নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ
জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।  প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম
জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায়।

অন্যান্য বছর পাঁচটি জামাত হলেও এবার হবে ছয়টি। মানতে
হবে স্বাস্থ্যবিধি। নিষিদ্ধ কোলাকুলিও। সবাইকে বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে
যেতে হবে মাস্ক পরে। নামাজের কাতারে দাঁড়াতে হবে দূরত্ব রেখে।

উৎসবের সেই আমেজ ম্রিয়মাণ হয়েছে এখন। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানির রেওয়াজ। প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ বিশ্ব মুসলিম ময়দানে নামাজ আদায়ের পর যার যা সাধ্য ও পছন্দ অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

আরবি আজহা এবং কোরবান উভয় শব্দের অর্থ হচ্ছে উৎসর্গ। কোরবানি শব্দের অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা, অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া প্রভৃতি।

প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিলো না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে। আর সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, ‘অতএব, তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।’ সুরা হাজ্জে বলা হয়েছে, ‘কোরবানি করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’

জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো এক দিন কোরবানি করা যায়। কোরবানিকৃত পশুর তিন ভাগের এক ভাগ গরিব-মিসকিন এবং এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার বিধান আছে। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়।

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author