পানি কমায় বেড়েছে নদী ভাঙন

বন্যার সাথে সাথে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন স্থাপনা নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মানচিত্র থেকেও হারিয়ে গেছে দেশের কয়েকটি গ্রাম। নি:স্ব হয়েছে অসংখ্য মানুষ। আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় দিন কাটছে ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মানুষের। তাদের সবারই অভিযোগ, ভাঙন রোধে কেউ কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

রতিদিনই ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র দেখছে নদীতীরের মানুষ। চোখের নিমিষেই নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে নানা স্থাপনা। সম্প্রতি মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় বিলীন হয়ে যায় চরাঞ্চলের শিক্ষার বাতিঘর। এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবনের একাংশ ভেঙ্গে পড়লো।

মেঘনার ভাঙনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে চাঁদপুর হাইমচরের ঈশানবালা বাজার ও আশপাশের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কয়েকদিনেই বিলিন হয়ে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

মেঘনার ভাঙন তীব্র হয়েছে ,লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায়। গত কয়েকদিনে নদী গর্ভে চলে গেছে দুই উপজেলার কয়েকটি হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি। নি:স্ব হয়েছে শত শত পরিবার। হুমকিতে রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি এলাকা। ভুক্তভোগিদের দাবি, ভাঙন রোধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচেছ না।

রংপুরের নদীগর্ভে গেছে গোটা শংকরদহ গ্রামটি। চিহ্ন হিসেবে আছে শুধু একটি
মসজিদ। এভাবে গ্রামের পর গ্রাম এবং বিভিন্ন এলাকা চলে যাচ্ছে নদীতে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বামনী নদীর ভাঙনের কবলে চর এলাহী ইউনিয়ন। এরইমধ্যে ইউনিয়নের অনেক রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি নদীগর্ভে গেছে। এমন ভাঙল চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে হয়তো মানচিত্রে এলাকাটির কোন চিহ্নই থাকবে না।

নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীতে ভাঙন শুরু হয়। অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে এ ভাঙন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন জানালেন, ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

ধরলা নদীর ভাঙনে কুড়িগ্রামে মাত্র এক সপ্তাহে নি:স্ব হয়েছে অর্ধশত পরিবার। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধে। পানি কমলে ভাঙা অংশ সংস্কারসহ স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author