পানি কমায় কয়েক জেলায় তীব্র নদী ভাঙ্গন

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এবং অতি বৃষ্টির কারণে দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কিছু নদীর পানি কমলেও অনেক নদীর পানি বিপদসীমার উপরে। আর পানি কমতে থাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের খামার। অনেক স্থানে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে লালমনিরহাট সদরের চর গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার বাহাদুরপাড়া, চন্ডিমারী, কুটিরপাড়, কালীগঞ্জের আমিনগঞ্জ, চর বৈরাতী, হাতীবান্ধার সিংঙ্গীমারী, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি, সির্ন্দুনা,পাটিকাপাড়া, ফকিরপাড়া ও সানিয়াজানের বাঘের চর, নিজ শেখ সুন্দর, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। ঝুঁকিতে পড়েছে সলেডি স্প্যার বাঁধসহ সব বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে আদিতমারীর কুটিরপাড়া ও বাহাদুরপাড়া গ্রামের বালুর বাঁধ।

পানি কমছে গাইবান্ধা সদর উপজেলায়। এতে কামারজানিতে ব্রহ্মপুুত্র নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। মাত্র তিন দিনে ২টি মন্দির-স অন্তত ২শ’ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ব্রহ্মপূত্র অববাহিকায় এখনো অনেক পরিবার পানিবন্দি। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট ও আমনের বীজতলা নিয়ে বিপাকে বানভাসী মানুষ।

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও অন্যান্য নদীর পানি বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ১০ উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি। জেলার বাসাইল, মির্জাপুর ও কালিহাতী উপজেলার মানুষের দীর্র্ঘমেয়াদি বন্যার ফাঁদে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তরাণ তৎপরতা চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। 

ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদীর পানি বাড়ায় জামালপুর জেলার ৭ উপজেলার ১০ লাখ মানুষ একমাসের বেশি সময় ধরে পানিবন্দি থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। রেললাইনের উপর পানি ওঠায় দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুরের সাথে রেল যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন। কমেছে যমুনার পানি।

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাদিপুর শহররক্ষা বেড়িবাঁধ দ্বিতীয় বারের মতো ভেঙ্গেছে। এতে বর্ধিত পৌরসভার ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ড নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে তিস্তার ভাঙ্গন পিছু ছাড়ছে না। বসতভিটা হারিয়ে কাঁদছে তিস্তার পাড়ের হাজারো মানুষ। দূর্যোগ-দুর্ভোগ, নদী ভাঙ্গন তিস্তা পাড়ের মানুষের নিত্য দিনের সাথী। প্রমত্তা তিস্তা যেন জেলাবাসীর দুঃখ। নদী ভাঙ্গন পরম আত্মীয়। বছর বছর বন্যার পানি, নদী ভাঙ্গন এ যেন ৬৩ চরের পরম পাওয়া।

তিস্তা আর ধরলা নদী বেষ্টিত লালমনিরহাটে ৫ উপজেলা চলতি বছরের মে মাস থেকে বন্যা চলমান রয়েছে। টানা ১৫/২৫ দিন পানিবন্দি থেকে মুক্তি মিলেও ভাঙ্গনের মুখে পড়ছে মানুষ। গত সপ্তাহে থেকে পানি বন্দি থেকে মুক্তি মিলছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের। মুক্তি মিললেও রক্ষা পাচ্ছে না বসতবাড়ী। বন্যার পানি নেমে গেলে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ে তিস্তা পাড়ের হাজারো পরিবার। ভাঙনের কবলে পরে প্রতি বছর নিঃস্ব হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ।

ভাঙন কবলিতদের পুর্নবাসনের জন্য সরকারিভাবে মাত্র ৭ হাজার টাকা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author