দেশে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে

দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি না বাড়ায় উন্নতির দিকে যাচ্ছে দেশের বন্যা পরিস্থিতি। বৃষ্টিপাত না বাড়লে আগামী কয়েকদিনে পানিতে টান পড়বে।

পানি উন্নয়র বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে ১৮টি নদ-নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যায় প্লাবিত রয়েছে ১৮টি জেলার নিম্নাঞ্চল। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি সমতলও স্থিতিশীল আছে, যা আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার ২৯ জুলাই বন্যা পূর্বাভাস ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘন্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে, ঢাকা জেলার আশেপাশের নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা আগামী ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও তিস্তা নদীগুলোর পানি সমতলও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বুধবার নাগাদ কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর এবং নওগাঁ জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।

অপরদিকে, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ি, শরীয়তপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। গত কয়েকদিনে বৃষ্টিপাত কমে গেলেও বর্তমানে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষ হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে বর্ষণ ফের বাড়তে পারে।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মােটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এ কারণে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বর্ষণের প্রবণতা বাড়বে ঈদের পর।

উল্লেখ্য, দেশের পর্যবেক্ষণাধীন ১০১ টি নদী সমতল স্টেশনের মধ্যে বৃদ্ধি ৪৩, হ্রাস ৫৫, অপরিবর্তিত রয়েছে ৩, বিপদসীমার উপরে ১৮ টি, বিপদ সীমার উপরে স্টেশনের সংখ্যা ২৯ টি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author