বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৬ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪০ জন। বাংলাদেশ সময় বুধবার ২৯ জুলাই সকাল সাড় ১১ টার দিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৮৫। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৭২ জন।

আমেরিকার দুই মহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এখনও দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে ইউরোপকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে করোনা কিছুটা স্তিমিত হলেও সেখানে আবারও নতুন করে রোগটির প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এখন আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে।

করোনার ভয়াবহ তান্ডবে দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায়ও ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯০১ জনের দেহে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৫ হাজার ৫৬৯ জন।

করোনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবার উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। না ফেরার দেশে ১ লাখ ৫২ হাজার ৩২০ জন মানুষ। ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৯ জন। প্রাণহানি ৮৮ হাজার ৬৩৪ জনে ঠেকেছে। 

সংক্রমণের দিকে থেকে তিনে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ৩২ হাজার ১৩৫ জন। প্রাণহানি ঘটেছে ৩৪ হাজার ২২৪ জনের। রাশিয়ায় সংক্রমিতের সংখ্যা ৮ লাখ ২৩ হাজার ৫১৫ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫০৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। 

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংক্রমিতের সংখ্যা ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ২৫৭ জনের। লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ পেরুতেও আক্রান্ত ৩ লাখ ৯৫ হাজারের ৫ জন। যেখানে মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬১২ জন। মেক্সিকোয় আক্রান্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার পেরিয়েছে। প্রাণ গেছে ৪৪ হাজার ৮৭৬ জন মানুষের। 

সংক্রমণ বাড়ছে চিলিতে। আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ জন। এর মধ্যে ৯ হাজার ২৪০ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬৯০ জন। প্রাণ গেছে সেখানে ২৮ হাজার ৪৩৬ জনের।

এদিকে যুক্তরাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯২ জন। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৪৫ হাজার ৮৭৮ জনের। 

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশ ইরানে করোনার শিকার ২ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি মানুষ। প্রাণহানি ঘটেছে ১৬ হাজার ১৪৭ জনের। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে করোনার শিকার ২ লাখ ৭৬ হাজারের অধিক। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮৯২ জনের। 

সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ৮৩১। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৭৮৯ জন। ইতালিতে ২ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি করোনার ভুক্তভোগী। এর মধ্যে পৃথিবী ছেড়েছেন ৩৫ হাজার ১২৩ জন। তুরস্কে করোনার ভুক্তভোগী ২ লাখ সাড়ে ২৭ হাজার ৯৮২ জন মানুষ। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ৫ হাজার ৬৪৫ জনের। 

সব কিছুর পর আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায়ও ২ লাখ ২৪ হজারের বেশি ভুক্তভোগী সুস্থ হয়েছে।
 
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার ২৮ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ৩ হাজার জনের। আর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১৪ জন ভুক্তভোগী।

ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও উৎপত্তিস্থল চীনে নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসটি। তবে দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও মুক্ত হচ্ছে না পুরোপুরি। এখনও প্রতিদিনই কমবেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। 

গেল বছর ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে
করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও
সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই
ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি
পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author