করোনায় বিঘ্নিত হচ্ছে অন্যান্য চিকিৎসা

করোনার দাপটে বিঘ্নিত হচ্ছে অন্যান্য
রোগের চিকিৎসা। করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া, হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তির
সুযোগই মিলছে না বলে অভিযোগ আছে। দাঁতের সমস্যার মতো সাধারন রোগ
কিংবা গর্ভবতী মায়েদেরও সেবার জন্য ঠোকর খেতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা
সংক্রমনের হার নিম্নমুখী না হলে সংকট কাটবে না। এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কার্যক্রম আটকে আছে তদারকি আর তদন্ত করার আশ্বাসের মধ্যে।

পাবনার নূরুজ্জামানের মায়ের পেটে টিউমারের অস্তিত্ব মেলে মাসখানেক আগে। যা পরে রূপ নেয় মরণঘাতি ক্যান্সারে। মারণঘাতি রোগটি এমন একটা সময়ে ধরা পড়েছে, যখন করোনা মহামারির থাবায় বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। ফলে মায়ের চিকিৎসা সেবা পাওয়া নূরুজ্জমানের কাছে হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ।

হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার,
পক্ষাঘাত, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট, লিভার ও কিডনি সমস্যার রোগীরা আছেন দিশাহীন অনিশ্চয়তায়। সঠিক সেবা মিলছে
না গর্ভবতী মা ও শিশুদেরও।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী,
প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ৪৫ জন চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে আছে
মাত্র ৯ জন। এদের একটা বড় অংশকে এখন করোনা মোকাবেলায় নিয়োজিত থাকতে হচ্ছে। অনেকেই আবার এ রোগে
আক্রান্ত হয়ে দূরে আছেন দায়িত্ব পালন থেকে। করোনা রোগীর কারণে আবার
লকডাউনের কবলে পড়েছে অনেক হাসপাতাল। ফলে সেগুলোতেও বন্ধ সব সেবা।

দেশের স্বাস্থ্যসেবার ৬৪ শতাংশ
নিজেদের দখলে রাখলেও করোনা সংকটে বেসরকারি হাসপাতালের অংশগ্রহণ খুবই নগণ্য। আবার কিছু বেসরকারি
হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চেম্বার সীমিত করে ফেলেছে কার্যক্রম। কেউ কেউ তো প্রতিষ্ঠানই
বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত
করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গেল বছর ডেঙ্গু মোকাবেলায়
হিমশিম খেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। চলমান করোনার প্রভাব তো আরো
ভয়াবহ। তাই যে কোনো মহামারি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন
বিশেষজ্ঞরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author