2

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন আজ। গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় ১৯৪৭ সালের এ দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছার ঘর আলোকিত করে  জন্ম নেন শেখ হাসিনা। টুঙ্গিপাড়ায় এক পাঠশালায় শিক্ষাজীবন শুরু হয় তার। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে লাভ করেন স্নাতক ডিগ্রি।

4

১৯৬৮ সালে পরমানুবিজ্ঞানী ডক্টর ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ নেদারল্যাণ্ডের হেগে অবস্থানকালে তিনি খবর পান স্ব-পরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার।

শেখ হাসিনা ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন কলেজ শিক্ষার্থী থাকাকালে। অংশ নেন স্বৈরশাসক আইয়ুববিরোধী ও ছয় দফা আন্দোলনে।

Birthday

১৯৮১ সালে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। একই বছরের ১৭ মে ছয় বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমিতে ফেরেন তিনি।

১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে মিডিয়া ক্যু’র মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয়া হয় আওয়ামী লীগের বিজয়। ফলে তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে ও রাজপথে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালের ছাত্র-গণআন্দোলনে স্বৈরাচারের পতনের পর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদেও বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি তৃতীয় বারের মতো বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। পরে, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠা অর্জনের মধ্যদিয়ে পরপর দু’বার প্রধানমন্ত্রী হন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আইটি বিশেষজ্ঞ এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ। সারাবিশ্বের অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে তিনি কাজ করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর তিনি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য।

3

গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যা চেষ্টা চালানো হয়। গোপালগঞ্জে সমাবেশস্থলে শক্তিশালী বোমা পুতে রাখা, ঢাকায় শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, বিমানে নাশকতাসহ অসংখ্য হত্যা চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মিথ্যা মামলায় আটক রাখে দীর্ঘদিন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকারের অন্যতম সাফল্য… পার্বত্য শান্তি চুক্তি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে আপোষহীন অবস্থান। জাতির জনকের হত্যার বিচার ও ১৯৭১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বলছে বাংলাদেশ এখন সেরা ১০০ দেশের মধ্যে অবস্থান করছে। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ নেতৃত্ব গুণের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

মেট্রোরেল ও পদ্মাসেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। চলতি বছরেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোষণা করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের নানা পদক্ষেপে মানুষের গড় আয়ু ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু কমা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় ঘরে ঘরে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট পৌছে যাওয়া এবং পায়রা বন্দর দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment