বন্যায় উত্তরের চার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ডুবে গেছে উত্তরাঞ্চলের চার জেলার নিন্মাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও ফসল। টানা তিনদিন এসব নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় দূর্ভোগে পড়েছে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানান, নতুন নতুন এলাকায় পনি ঢুকে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েে পড়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে, গাবুরজান, কামারটারি, চর গুজিমারী, চর দাগারকুটি, নীলকন্ঠ, কমদমতলা বাজারের কিছু অংশ।

বন্যা নিয়ন্ত্রণে হাতীবান্ধায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে, যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ফের বাড়তে শুরু করেছে। নিন্মাঞ্চলের ১৫ গ্রামের অনন্ত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার আমন ধান, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল।

এদিকে, কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও রাজারহাট উপজেলার নদ-নদী তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ২ শতাধিক চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

একদিন স্থিতিশীল থাকার পর যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ফের বাড়তে শুরু করেছে। জেলায় যমুনার পানি বেড়ে বিপত্সীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল (২৬ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার সরকার জানান, সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে গতকাল যমুনার পানি বিপত্সীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে গতকাল সকাল পর্যন্ত এখানে পানিপ্রবাহ বেড়েছে ১২ সেন্টিমিটার।

তিনি আরও জানান, আগামী আরো কয়েকদিন নদীর পানি বেড়ে বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে এ সময় আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে যমুনার পাশাপাশি ফুলজোড়, করতোয়া, হুরাসাগর, ইছামতী ও বড়াল নদীতেও এখন পানি বাড়ছে। পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলে আবাদকৃত ভুট্টা, বাদাম, তিল, কাউন ও সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author