করোনা আতঙ্কে গোটা বিশ্ব

করোনাভাইরাস আতঙ্কে অস্থির গোটা বিশ্ব। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে এটি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্বময়। ফুসফুসে সংগোপনে হামলা চালিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে মানুষের এত জয়জয়কারের পরও মারণ এ রোগ প্রতিরোধে কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। প্রশ্ন হলো, কেন এত ভয়ঙ্কর করোনা আর ছড়ায় বা কীভাবে?

করোনাভাইরাসের পোশাকি নাম সার্স সিওভি-টু। ভাইরাসটি নি:শ্বাসের সঙ্গে মানবদেহে প্রবেশ করে। অথবা ভাইরাস সংক্রমিত কোনো স্থান স্পর্শ করার পর সে হাতে মুখ স্পর্শ করলে। শুরুতে গলা, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের কোষে হামলা চালায় এটি। পরে বিস্তার ঘটায় প্রতিটি কোষে। যাকে বলে ইনকিউবেশন বা প্রাথমিক লালনকাল। এ সময়টাতে ভাইরাস শরীরের কোষগুলোতে ঢুকে সেসবের নিয়ন্ত্রণ দখল করে।

প্রতি দশজনের
আটজন মানুষের বেলায় এর প্রধান
উপসর্গ কাশি ও জ্বর। শরীর, গলা এবং মাথাব্যাথাও হতে পারে। তবে এমনটা না-ও হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে
পূর্ণ বিশ্রাম, প্রচুর তরল পান করা এবং প্যারাসিটামল
খাওয়ার উপদেশ দিয়েছেন ডাক্তাররা। এ ধাপটি এক সপ্তাহের মত স্থায়ী
হয়। নিয়ম মেনে
চললে অধিকাংশ মানুষ এ ধাপের
মধ্যেই সুস্থ হয়ে যান।

অনেকের ক্ষেত্রে সপ্তাহ পার হলে কোভিড-নাইনটিনের ভয়ঙ্কর একটি সংষ্করণ তৈরি হয়। এ ধাপে ভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া কেমিক্যালগুলো প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ শুরু করে দেয়। এ সুযোগে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় ভাইরাসটি। ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রদাহ বা ঘায়ের মত দেখা দেয়। আর ফুসফুসে প্রদাহ তৈরি হওয়ার কারণে দেখা দেয় নিউমোনিয়া।

বুকে ঠাণ্ডা জেঁকে বসলে ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলো পানিতে ভরে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে ফুসফুসে প্রদাহ ছড়িয়ে পড়ায় শরীরের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ক্ষতির মাত্রা বেশি হলে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শরীরকে আর বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয় না এবং মানুষ মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author