১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১

পরাজয় নিশ্চিত জেনে একাত্তরের এদিনে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বিভিন্ন স্থান থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এদিন জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হবে।

১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১। একটি সফল সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে বিজয় নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরে ফেরা তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সাভার অতিক্রম করে মুক্তিযোদ্ধাদের ঢাকায় প্রবেশ আর মাত্র দুই কিলোমিটার বাকি। এদিন সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় মিত্রবাহিনীর বিমান আক্রমন।

যুদ্ধে নাকাল পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত জেনেও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বিকেল তিনটায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু থেমে থাকেনি মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের প্রবল আক্রমনের মুখে যুদ্ধ পরিস্থিতি টের পেয়ে পিজি হাসপাতাল থেকে পোষাক বদলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় কয়েক’শ পাকিস্তানি সেনা।

রাও ফরমান আলীর নেতৃত্বে দেশকে মেধাশুন্য করার নীল নকশা তৈরি ছিলো আগেই। বাস্তবায়ন ঘটে ১৪ ডিসেম্বর। এদেশীয় দোসরদের নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশকে ধ্বংসের শেষ অস্ত্র হিসেবে গভীর রাতে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। যা বাংলার ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়ের জন্ম দেয়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author