মাদাম তুসো জাদুঘর, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের মোমের তৈরি মূর্তির সংগ্রহশালা। যেখানে আছে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত ও রাজকীয় ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্র তারকা, তারকা খেলোয়াড়, এমনকি কুখ্যাত খুনিদেরও মোমের তৈরি মূর্তি। সাপ্তাহিক ও অন্যান্য সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে জাদুঘরটি।

মাদাম ম্যারি তুসো নামে এক ফরাসি মহিলা জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠিতা। ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে জন্ম নেয়া এ নারীর শৈশবে নাম ছিল আনা মারিয়া গ্রোসোল্জ। তার মা সুইজারল্যান্ডের বার্নে ডাঃ ফিলিপ কার্টিয়াসের গৃহ পরিচারিকা ছিলেন। মোমের ভাস্কর্য তৈরিতে দক্ষ ডাঃ ফিলিপ তুসোকে মোমের ভাস্কর্যের যাবতীয় কলা-কৌশল শেখান।

১৭৭৭ সালে তুসো প্রথম যে মোমের ভাস্কর্য তৈরি করেন তা ছিল ফরাসি লেখক ভলতেয়ারের। এরপর ফরাসি দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানি জ জাক রোশো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের ভাস্কর্য তৈরি করেন। ফরাসি বিপ্লবের সময় তিনি অনেকগুলো ঘটনার চিত্রকর্ম মূর্তি হিসেবে তৈরি করেন যা প্যারিসের রাস্তায় প্রদর্শনের জন্য ধারণ করে রাখা হয়েছিল।

১৭৯৪
সালে ডা.
ফিলিপের মৃত্যুর পর মোমের তৈরি মূর্তিগুলোর মালিক হন
তুসো। ১৮০২ সালে লন্ডনের লিশিয়াম থিয়েটারে
তার মোম ফার্মের প্রদর্শনী করেন। পরে এসব শিল্পকর্ম সংরক্ষণের জন্য তিনি ১৮৩১ সালে
বেকার স্ট্রিট বাজারের ওপর তলা ভাড়া নেন। চার বছর পর সেখানেই
প্রতিষ্ঠা করেন তুসো জাদুঘর। তার প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল
ভৌতিক কক্ষ। এতে ফরাসি বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিসহ খুনি ও ঘাতকদের মূর্তি রাখা হয়েছে।

জাদুঘরটিতে
যেমন আছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
মোমের মূর্তি। তেমনি আছে চলচ্চিত্র তারকা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও, রবার্ট
প্যাটিনসন, শাহরুখ
খান, ঋত্বিক
রোশন,
মাধুরী দীক্ষিত এবং শ্রীদেবীর মূর্তি। কল্পতারকা শার্লক
হোমস কিংবা স্পাইডারম্যানও খুঁজে পাওয়া যাবে এখানে।

মোমের
তৈরি ওই পুতুলগুলোর এতটাই নিখুঁতভাবে তৈরি যে পাশে সত্যিকার তারকাকে দেখলেও বুঝে
ওঠা কঠিন কোনটি মানুষ আর কোনটি ভাস্কর্য। জাদুঘরটি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নটা
থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author