অপরাধ না করেও ১৮ বছর ধরে মামলার ঘানি টানছেন নাটোরের হতদরিদ্র বাবলু শেখ। জেলও খেটেছেন ৫৯দিন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আইনজীবীর গাফিলতির কারণে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে অনেকটা ক্লান্ত সে। ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় কাজী আবদুল মালেক বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৩ নম্বর আসামীদের একজন শ্রী বাবু। পুলিশ শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেয়।

কিন্তু ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর শ্রী বাবুর পরিবর্তে সিংড়া উপজেলার আঁচলকোট গ্রামের বাবলু শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। ভুলের বিষয়টি আদালতকে অবহিত না করে আসামির আইনজীবী শ্রী বাবু পরিচয়েই বাবলু শেখের জামিন করান। এরই মধ্যে দুই দফায় ৫৯ দিন জেল খাটতে হয় তাকে।

২০১৬ সালের ২৩ জুন আদালত বাবুল শেখকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। পরে আপিলের মাধ্যমে জামিনে বের হন তিনি। এনিয়ে ভিন্ন মত দেন বাবুলের আগের ও বর্তমান আইনজীবী।

১৫ বছর আগে মারা যান মামলার বাদি আবদুল মালেক। পরিবারের সদস্যরা বলছেন এ সম্পর্কে কিছুই জানেননা তারা। দিনের পর দিন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে নিঃস্ব বাবলু শেখের পরিবার। আর বাবলু শেখকে ক্ষতিপুরণ দেয়ার দাবী তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। দীর্ঘদিনের ঘটনা হওয়ায় নথিপত্র না দেখে কথা বলতে রাজি হয়নি সদর থানার কোন কর্মকর্তা। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় রায়ের দিন ধার্য রয়েছে। আর সেই দিনই মুক্তি পাবার প্রত্যাশা বাবুলের।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author