দুর্নীতির শীর্ষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ

ফরিদপুর
মেডিকেল কলেজের দুর্নীতি রূপপুর পারমানবিক
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বালিশক্রয় দুর্নীতিকেও হার মানিয়েছে। সোয়া ৫ কোটি টাকায় কোরিয়া থেকে কেনা অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্টকে বলা
হয়েছে মেইড ইন আমেরিকা। এক সেট পর্দা কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ কোটি ২৭ লাখ টাকা,
যা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। আর্থিক অনিয়মের ঘটনা তদন্ত করে ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

২০১২
থেকে ২০১৬ সাল-এ চার বছরে
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের ১৬৬টি
যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিক ট্রেডার্স।
এজন্য সর্বমোট খরচ দেখানো হয়েছে ৫১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি যন্ত্র কেনায় বড় ধরনের দুর্নীতির আশ্রয়
নেয়া হয়েছে।

অক্সিজেন
জেনারেটিং প্ল্যান্টের কথাই ধরা যাক। আমেরিকায় তৈরি উল্লেখ
করে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা দাম ধরা এ যন্ত্রটি আসলে দক্ষিণ
কোরিয়ার পণ্য। যার বাজারমূল্য অনেক কম। একইভাবে ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্টের
দাম ধরা হয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দন্ত বিভাগে স্থাপিত যন্ত্রটি আজ পর্যন্ত
ব্যবহার করা হয়নি।

একইভাবে বিআইএস মনিটরিং সিস্টেম, টোমেটিক স্কাব সিস্টেম, থ্রি হেড
কার্ডিয়াক স্টেথোসস্কোপসহ বেশিরভাগ যন্ত্রপাতিই কেনা হয়েছে বেশি দমে। মানের দিক
থেকেও খুব একটা সুবিধের নয়। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এক
সেট পর্দা কেনার ঘটনা।

দাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অনিক ট্রেডার্সের ১০ কোটি টাকা আটকে দেয়
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ২০১৭ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি হাইকোর্টে রিট করলে
যন্ত্রপাতির তালিকা চেয়ে পাঠান আদালত।

এদিকে যন্ত্রপাতি থাকলেও লোকবল সঙ্কটে ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সিসিইউ ও আইসিইউ বিভাগের কার্যক্রম। এসব যন্ত্রপাতি কেনার সময় হাসপাতালটিতে ৫ জন ডাক্তার প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যেই মারা গেছেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author