বেশিরভাগ নদনদীর পানিবৃদ্ধি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের কয়েক লাখ মানুষ। ত্রাণের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে পানিবন্দি এসব মানুষের দিন কাটছে অনাহার অর্ধাহারে।

জামালপুরের
বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি রেকর্ড ভেঙে বিপৎসীমার ১৬৫ সে.মি. উপর দিয়ে
বইছে। কূল চাপিয়ে যাওয়ায় পানিতে তলিয়ে গেছে ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জসহ
৭টি উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। ৬টি পৌর এলাকাতেও ঢুকে পড়েছে পানি। এতে ৫ লক্ষাধিক
মানুষ পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত
হচ্ছে। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় কাজিপুর-ধুনট সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সদর, কাজীপুর,  বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার
চরাঞ্চলের হাজারখানেক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছে প্রায় ২১ হাজার
পরিবার। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা না ছাড়ালেও অসংখ্য
পরিবার পানিবন্দি জীবন যাপন করছে।

ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৪৭ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। সরকারি হিসেবে সদর পৌরসভার ৪টি ওয়ার্ডসহ ৩৮টি ইউনিয়নের ২৪৯টি গ্রামের সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নওগাঁর নতুন করে প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। এতে দুভূোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, নকলা ও শ্রীবরদী উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের  হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছেন। পানি কমতে থাকায় বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হয়েছে। সিরাজগঞ্জে যমুনায় পানি বৃদ্ধি, কাজীপুরে রিং বাঁধ ধসে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

উজানের ঢল ও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বেড়েই চলছে নদীর পানি। এতে করে বাড়ছে নদী ভাঙ্গন। ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে বিপদসীমার ১৩৭ ও ঘাঘট নদীর পানি ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জামালপুরেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে  যমুনার পানি বিপদসীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে।

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নওগাঁয় আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ২০টি গ্রাম। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে জেলা পরিষদের বিকল্প রিং বাঁধের অন্তত ৬০ মিটার এলাকা ধসে ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author