এমন ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা কী?

মাঠে যার ব্যাট থেকে এল দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি, সেই তিনিই সংবাদ সম্মেলনে ভীষণ অসহায়। তামিম ইকবাল আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে বললেন, ‌‘কেন এই ব্যাটিং বিপর্যয় আমি নিজেও জানি না। এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।’

১ উইকেটে ১৭১। সেখান থেকে বাংলাদেশ অলআউট ২২০ রানে! মাত্র ৪৯ রানে পড়ল শেষ ৯ উইকেট। শেষ ৮ উইকেট ৩০ রানে। টেস্ট ক্রিকেটে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ে অনেক দিন পরই পড়ল বাংলাদেশ।
তৃতীয় ওভারে ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পরও মনে হচ্ছিল, মিরপুরের উইকেটে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস খুব খারাপ চেহারা নেবে না। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আশাটা দেখাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল আর মুমিনুল হক। প্রথম সেশনে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৮ রান, ১৭০ রানের জুটি তামিম-মুমিনুলের। কিন্তু ১৭১ রানে তামিমের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। ব্যাটসম্যানদের উইকেট বিসর্জনের প্রতিযোগিতার পরিণতি, টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশ অলআউট ২২০ রানে।
বাংলাদেশের ইনিংসটা মূলত দিনের দ্বিতীয় সেশনেই ধসে পড়ে। লাঞ্চ থেকে চা বিরতি—মাত্র ৮৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে এই সময়ে। চা বিরতির পর আর ৭ ওভার ৫ বল খেলে তো ইনিংসই শেষ! তাতে অলংকার বলতে তামিমের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি আর মুমিনুলের দশম ফিফটির ইনিংস।
কিন্তু তাঁদের অমন শুরুর পরও কেন এই ব্যাটিং বিপর্যয়? এক দিক থেকে চিন্তা করলে কৃতিত্বটা মঈন আলীর। শেষ ৯ উইকেটের পাঁচটিই গেছে এই অফ স্পিনারের দখলে। কিন্তু বলতে গেলে প্রায় সব আউটই ব্যাটসম্যানদের ভুলে! শুধু মুশফিককে আউট করতে অ্যালিস্টার কুককে লেগ স্লিপে যা একটু কসরত করতে হলো। বাকিদের বেলায় এত কষ্টও করতে হয়নি।
সেঞ্চুরি করেও মঈনের নিরীহ বল ছেড়ে এলবিডব্লিউ হন তামিম। পরে স্বীকার করেছেন, বলটা নাকি বোঝেননি। মঈনের আরেকটা বলের লেংথ না বুঝে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড মুমিনুল। বাংলাদেশের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মঈনের আরেক শিকার মেহেদী হাসান। রাউন্ড দ্য উইকেটে বল করেছিলেন মঈন, কিছুটা ওভার পিচ। সেটাতেই সুইপ করতে গিয়ে মেহেদী এলবিডব্লিউ। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউতে বদলে যায় তাঁর সিদ্ধান্ত। শেষ ব্যাটসম্যান কামরুল ইসলামকে ফিরিয়ে টেস্টে দ্বিতীয়বার পঞ্চম উইকেটের দেখা পান মঈন। প্রথমবার পেয়েছিলেন ভারতের বিপক্ষে, ২০১৪ সালের হোম সিরিজে।
বাজে শট খেলে আউটের শুরুটা ইমরুল কায়েসের হাত ধরে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ক্রিস ওকসকে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে। ব্যাখ্যা নেই বেন স্টোকসের বলে মাহমুদউল্লাহ, সাব্বিরের আউটেরও। ওকসের বলে শুভাগত, সাকিবের ফিরে যাওয়ারও। মিরপুর টেস্টটাকে হঠাৎ করে হয়তো ওয়ানডে ভাবতে শুরু করেছিলেন। পড়ন্ত বেলায় বুঝি মনে করছিলেন, স্লগ ওভারের খেলাই চলছে। বড্ড তাড়া সবার!
বৃষ্টিতে শেষ ১৯ মিনিট খেয়ে নেওয়া প্রথম দিন শেষে তামিমকে সেঞ্চুরির তৃপ্তি উপভোগ করতে দিল না সতীর্থদের বাজে আউটগুলোই, ‘আমি এসবের কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারব না আসলে। শুধু এটুকু বলব, আমাদের রানটা আরও এক শ বেশি হওয়া উচিত ছিল। ওদের ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তাহলে আমরা এখন অনেক ভালো অবস্থায় থাকতাম।’
তামিমের বিবেচনায় দিনের প্রথম ১০ ওভার উইকেটে ব্যাটিং একটু কঠিন মনে হলেও পরের ২৫-৩০ ওভার পর্যন্ত কাজটা সহজই ছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বেশ কটি বাউন্ডারিও পেয়েছেন। কিন্তু বল যত পুরোনো হতে থাকে, বাড়তে থাকে রিভার্স সুইং। এই টেস্টের আগেও এই রিভার্স সুইং নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। তামিমও মনে করেন, রির্ভাস সুইং খেলায় অনভিজ্ঞতাই ভোগাল, ‘আমার আর মুমিনুলের জুটি ভাঙার পরই রিভার্স সুইং হতে শুরু করে। আমাদের তো কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেই এ ধরনের বল খেলার খুব একটা সুযোগ হয় না।’
দ্বিতীয় দিনে আশা একটাই, আজ শেষ বেলার মতো উইকেটের সুবিধাটা যদি আদায় করে নিতে পারেন স্পিনাররা। প্রথম ইনিংসের ২২০ রান নিয়েও তাহলে লড়াইটা জমানো যাবে বলে আশা তামিমের। যদিও ভেজা কন্ডিশন বাংলাদেশের স্পিনারদের ভোগাতে পারে।
এ সবই ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু এমন ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা কী!

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment