নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই কার্যক্রম চালাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাই স্কুল

বিপ্রজিত বাপ্পা: নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে প্রসাশনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এক শ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমনই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ঢাকা মেট্রোপলিটন হাই স্কুল। অপর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, নোংরা পরিবেশে পাঠদানের মতো অনিয়মগুলোতো আছেই; আবার দুর্বল শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেয়ার নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শিক্ষক নামধারী এসব প্রতারকরা।

মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩২৭, অথচ শুধুমাত্র জেএসসি পরীক্ষাতেই অংশ নিয়েছে ৬৮৯ জন শিক্ষার্থী। এমন চমকপ্রদ তথ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাই স্কুল নিয়ে অনুসন্ধানে নামে মোহনা টিম।

শিক্ষাবোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্কুলটির অবস্থান মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডে। অথচ সেখানে গিয়ে দেখা গেলো আবাসিক ভবন। ওই বিদ্যালয়ের কোন অস্তিত্বই নেই সেখানে।

অনেক খোঁজাখুজির পর ইব্রাহিমপুরে দেখা মিললো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির। ছয়তলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেয়া হয়েছে। ছোট ছয়টি ক্লাসরুমে, নোংরা পরিবেশের মধ্যেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি থাকলেও এরা পড়াচ্ছে দশম শ্রেণী পর্যন্ত।

পুরো স্কুলটিতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩২৭, তাহলে ৬৮৯ জন কিভাবে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়… এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির  প্রধান শিক্ষক সব দায় চাপালেন পরিচালনা কমিটির সভাপতির ওপর।

একটু পরেই বের হয়ে আসে থলের বেড়াল। রাজধানীর প্রায় ২৫টি স্কুলের তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা মোটা অংকের টাকা দিলে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহিউদ্দীন আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

তদন্ত করে বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় শাখার পরিদর্শক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণীর অসাধু আমলার প্রশ্রয়েই এসব প্রতিষ্ঠান অনৈতিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা ১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহ্বাজ কামাল আহমেদ মজুমদার।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment