আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। পৃথিবীর যেকোন ভাষাতেই ভালোবাসা শব্দটির সঙ্গে মনের কোণে দোলা দেয় এক স্বর্গীয় অনুভূতি। প্রেমিক-প্রেমিকা, মা-বাবা, ভাই-বোন কিংবা বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে পাওয়া অমূল্য সম্পদের নাম, ভালোবাসা।

একে ঘিরে যুগে যুগে রচিত হয়েছে অজস্র কাহিনী, ইতিহাস ও কিংবদন্তী। ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোন সময় না থাকলেও বেশ কিছু ঐতিহাসিক মিথকে ঘিরে ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে।

প্রায় ২
হাজার বছর আগে তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্যে ভালোবাসা দিবস উদযাপন শুরু হয় বলে দাবি
করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে
১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি লুপারক্যালিয়া নামে 
ভালোবাসার এক উৎসব পালিত হতো। যদিও যেখানে ভালোবাসার চেয়ে আদিম বর্বরতাই
বেশি থাকতো।

তৃতীয় শতকে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লদিয়াস তার সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু সম্রাটের আদেশ অমান্য করে ভালোবাসার বাণী প্রচার করতে থাকেন ভ্যালেন্টাইন নামে এক সাধু। শাস্তিস্বরূপ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুর আগে নিজের প্রেমিকার উদ্দেশে এক চিঠিতে ইউর ভ্যালেন্টাইন কথাটি লিখে যান ঐ সাধু। 

সেন্ট
ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেই ৪৯৬ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভালোবাসা দিবস
ঘোষণা করেন পোপ গেলাসিয়াস। তার ঘোষণার পর খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে তা জনপ্রিয়
হয়ে ওঠে। ১৩৮২ সালে ইংরেজ কবি জিওফ্রে চসারের কবিতায় প্রথম ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবসের কথা উঠে আসে।

ইতিহাস যাই হোক ভালোবাসা দিবস ঘিরে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের মিথই কৃতিত্ব পেয়ে আসছে। ভালোবাসার বিশেষ কোন দিন-তারিখ না থাকলেও একটি দিন প্রিয়জনের সান্নিধ্যে কাটাতেই পছন্দ করেন অনেকে। আর এভাবেই যুগ যুগ ধরে ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author