শাবিতে ‘উপাচার্যের ওপর হামলা’ তদন্তে কমিটি

উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়া সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেই এ তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “রোববার উপাচার্যের সাথে ধাক্কাধাক্কি ও উপাচার্যের ওপর হামলার ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হল।”

এই কমিটির নেতৃত্বে আছেন স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেস এর ডিন অধ্যাপক সাবিনা ইসলাম। সদস্য হিসেবে আছেন প্রক্টর কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক আমিনা পারভীন।

এই তিনজনই সরকারসমর্থক শিক্ষকদের একাংশের জোট ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তার চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ এর সঙ্গে আছেন। শিক্ষকদের এই অংশটি উপাচার্যকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

উপাচার্য তদন্ত কমিটি করার কথা বলার পর সাংবাদিকদের একজন বলেন, রোববার তো উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়েছিল।

এর জবাবে অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, “শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনাটি আমি আজ মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ করা হয়নি।”

তদন্ত কমিটি ‘সামগ্রিক বিষয়’ তদন্ত করেই দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা নেবে বলে জানান উপাচার্য।

তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। উপাচার্যের ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে গত ১২ এপ্রিল থেকে আন্দোলনে রয়েছে সরকারসমর্থক শিক্ষকদের একাংশের জোট ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’।

রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। তারা শিক্ষকদের ব্যানার কেড়ে নেয় এবং গলা ধাক্কা দিয়ে এবং মারধর করে তাদের সরিয়ে দেয়। এই ফাঁকে উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়া প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে দোতলায় নিজের কার্যালয়ে চলে যান।

অন্তত সাতজন শিক্ষক সে সময় ছাত্রলীগকর্মীদের মারধরের শিকার হন বলে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের’ আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল ইসলামের দাবি।

নারী শিক্ষকরাও তাদের হামলা থেকে রেহাই পাননি; হামলাকারীদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে আঘাত পান অধ্যাপক ইয়াসমিন হক।

ওই হামলার প্রতিবাদে সোমবার আধাবেলা কর্মবিরতি এবং প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি পালন করেছেন উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকরা।

তবে অধ্যাপক আমিনুল তার সহকর্মীদের উপর চড়াও হওয়া ছাত্রদের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দ্বারাই তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাতে তিনি পায়ে আঘাত পেয়েছেন। আর ছাত্ররা সেখানে গিয়েছিল শিক্ষার ‘পরিবেশ রক্ষা’র জন্য।

ওই ঘটনা নিয়ে রোববার দিনভর বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা-প্রতিবাদ চলে। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন দাবি করেন, হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়, ওই ঘটনার সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ছাত্ররা যার যার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সেখানে গেছেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment