রাজনৈতিক সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ে পর্যুদস্ত সিরিয়া। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে শুরু হওয়া আন্দোলন থেকে গৃহযুদ্ধে কয়েক পক্ষ জড়িয়ে যাওয়ায় এখন তা রূপ নিয়েছে জটিল এক সমীকরণে। দেশটি এখন পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে।

প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের পদত্যাগ এবং একনায়কতন্ত্রের অবসানের দাবিতে ২০১১ সালে বিক্ষোভ শুরু করে সিরিয়ার জনগণ। রাজধানী দামেস্কসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে যোগ দেয় বিরোধীদল। প্রতিবাদকারীদের দমনে সেনাবাহিনী নামলে সংঘর্ষে নিহত হয় অনেকে।  হত্যা, নির্যাতনের অভিযোগে সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। জঙ্গীগোষ্ঠীর মদদে সৃষ্টি হয় আসাদবিরোধী বেশ কয়েকটি বাহিনী।

মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গেল ৮ বছরে দেশটিতে সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজারই বেসামরিক। এছাড়া, এখনও নিখোঁজ প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ। মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্তই হয়নি অন্তত ১০ হাজার জনের।

যুদ্ধে আসাদ সরকারের পক্ষ নিয়েছে রাশিয়া, ইরান ও লেবাননের গেরিলা বাহিনী হিজবুল্লাহ। আর বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও অর্থ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স ও সৌদি আরব। এতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছে আইএস।

যুদ্ধে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ ওঠে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে। এতে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয় নারী ও শিশুরা।

ত্রিমুখী লড়াইয়ে দিশেহারা জনগণ। ভেঙে পড়েছে শিক্ষাসহ সব ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। কবে শেষ হবে এ গৃহযুদ্ধ… তা অনিশ্চিত। বরং সিরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘের ভূমিকাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment