বিন্দুমাত্র কাজে আসছে না ২০১৩ সালে করা পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইন। এতে সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার বসবাস ও ভরণ পোষণ বাধ্যতামূলক করা হলেও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আজ অব্দি কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে শেষ বয়সে এসে অনেক মা বাবাকে আশ্রয় নিতে হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। এ অবস্থায় পিতা-মাতার ভরণ পোষন আইনের যথাযথ প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছেন আইনজ্ঞরা।

৮৩ বছর বয়সী হামিদুল্লাহ ফারুক, দুই সন্তানের জনক। বড় মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী। ছেলে ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। কেউ একজনের ছায়া পেলেই বাকি জীবন আমোদে কেটে যাওয়ার কথা। কিন্তু দুই সন্তানের কারোই কাছেই আশ্রয় হয়নি তার। তাই জীবনের পড়ন্ত বেলার আশ্রয়স্থল এই বৃদ্ধাশ্রম।

একই অবস্থা ৯০ বছর বয়সী মীরা চৌধুরীর। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে নিজের রক্তমাংস পানি করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। কিন্তু শেষবেলায় সেই সন্তান তাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে পাড়ি জমিয়েছে বিদেশে।

হামিদুল্লাহ ফারুক আর মীরা চৌধুরীর মতো সমাজে অসংখ্য মা-বাবা আছেন, যারা সন্তান কর্তৃক শেষবয়সে এসে নিগৃহীত হয়েছেন বা হচ্ছেন।

২০১৩ সালের আইনে, পিতা-মাতার ভরণ না করলে সন্তানের শাস্তি ও জরিমানার কথা বলা আছে। তবে বিধিমালা তৈরি না হওয়ায়, এটি কার্যকর করা যাচ্ছে না।

বৃদ্ব মা-বাবার শেষজীবন নিরাপদ করদে দ্রুত বিধিমালা তৈরি ও আইনের যথাযোগ্য প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী।

 

 

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment