সময়ের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। কিন্তু থেমে নেই বর্ণবাদের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কটূক্তি। বর্ণবাদের এই তীর্যক তীরের আঘাতে মূলত ঘায়েল হচ্ছেন কালো চামড়া, মুসলিম কিংবা অভিবাসী খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে ফুটবল মাঠে কখনও সতীর্থ, কখনও সমর্থক দ্বারা লাঞ্ছিত হন তারা। বর্ণবাদের ঘটনায় সবশেষ আলোচনায় এসেছেন জার্মান তারকা মেসুত ওজিল।

সব বিবাদ ভুলে বিশ্বকে এক মঞ্চে আনে ফুটবল। সেই ফুটবলেও হরহামেশাই ঘটছে বর্ণবাদের মত ঘটনা। ভিন দেশ থেকে যাওয়া ফুটবলাররা দুই বা তিন প্রজন্ম ধরে একটি দেশে বসবাস করেও প্রতিনিয়ত শুনতে হয় অভিবাসী কিংবা শ্বেতাঙ্গ না হওয়ার অপবাদ। এমন এক ঘটনার ক্ষোভেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানলেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউস রাশিয়ায় পুতিনের সাথে সাক্ষৎ করলেও সেটা নিয়ে কোন কথা হয়নি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মেসুত ওজিলকে। তুর্কি বংশোদ্ভূত হওয়ায় ওজিলের সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করে আসছে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার রিপোর্টে জানা যায়, শুধু জার্মানি নয় ইউরোপ জুড়েই বিদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের সাথে এমন আচরণ করা হচ্ছে। বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু বলেন, দল ভালো করলে তাকে বেলজিয়ান আর খারাপ করলে বলা হয় কঙ্গোর বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার। এক নিবন্ধে ইউরোপে খেলতে গিয়ে বর্ণবাদের শিকার হওয়ার আরো কিছু ঘট্না তুলে ধরেন লুকাকু।

ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকার কারিম বেনজেমাও বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। খারাপ খেললে তাকেও অহরহ শুনতে হয় আরব হওয়ার দুয়োধ্বণি। রাশিয়া বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে পরাজয়ের কারণে বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন সুইডেনের দারমাজ।

ক্লাব ফুটবলেও বর্ণবাদ পরিচিত একটি বিষয়। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোকে ভিন দলের সমর্থকরা ডেকেছে ব্রাজিলিয়ান বানর বলে। বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন নেইমারও। বেশ কয়েকবার বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন ইতালির মারিও বালোতেল্লি।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment