ক্রোয়েশিয়ার প্রথম শিরোপাজয়ের স্বপ্ন ভেঙে বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধার করলো ফ্রান্স। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শিরোপাজয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে ক্রোয়েটদের ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হয় ফরাসীরা। বল দখল আর আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও, রক্ষণভাগের দূর্বলতায় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।

১৯৯৮ এর সেমিফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বসেরার মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া। এবার সেই ফ্রান্সের কাছেই ৪-২ গোলে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হলো ক্রোয়াটরা। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট পরে ফ্রান্স।

ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে নাচে-গানে সমাপনী অনুষ্ঠান মাতায় শিল্পীরা। আসরের অফিসিয়াল থিম সং পরিবেশন করেন যুক্তরাষ্টের নিকি জ্যাম ও উইল স্মিথ এবং কসোভোর ইরা ইস্তারেফি। ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতান ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবল তারকা রোনালদিনহো।

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে আসেন গেল আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির সাবেক অধিনায়ক ফিলিম লাম। এরপর স্বপ্নের এই ট্রফি জয়ে মুখোমুখি হয় ক্রোয়েশিয়া-ফ্রান্স। শুরু থেকেই ফরাসীদের চেপে ধরলেও, ১৮ মিনিটে মান্দজুকিচের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ক্রোয়াটরা।

২৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান পেরিসিচ। এর ১০ মিনিট পরেই ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন অ্যান্টোনি গ্রিজমান। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

সমতায় ফেরার লক্ষ্যে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ক্রোয়াইটদের একের পর আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকে ফরাসী রক্ষণভাগ। ব্যস্ততার মধ্যেই ৫৮ মিনিটে পল পগবা ও ৬৫ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ব্যবধান বাড়ায় ফ্রান্স।

৬৯ মিনিটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক লরিসের ভুলে ব্যবধান কমান ক্রোয়েশিয়ার মান্দজুকিচ। বাকি সময় কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ফরাসীরা। ক্রোয়াটদের কাঁদিয়ে ২০ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করে ফ্রান্স।

ব্যক্তিগত অর্জনে সর্বোচ্চ ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতে নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ/ ফ্রান্সের এমবাপ্পে গোল্ডেন বল ও সেরা গোলরক্ষক হিসেবে লরিস পান গোল্ডেন গ্লোভস।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment