টানা ছয়বার এবং এশিয়া কাপের একমাত্র চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হটিয়ে প্রথমবারের মত এশিয়া কাপের শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার কানরারা স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে ৩ উইকেটে হারায় বাংলার বাঘিনীরা। নারী ক্রিকেট দলের অভাবনীয় সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

একুশ বছর আগে মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফি জিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট উঠেছিলো অনন্য উচ্চতায়। সেই মালয়েশিয়াতেই এশিয়া কাপের তাজ মাথায় পড়লো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগের সব আসরের চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা জিতলো সালমা বাহিনী।

কুয়ালালামপুরের কিনরার একাডেমি মাঠে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক সালমা। বাংলাদেশের বোলিং তোপে ৩২ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ভারতের মেয়েরা। অধিনায়ক হারমানপ্রিত একপ্রান্ত আগলে রেখে ভারতীয়দের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন। ২০ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাড়ায় ৯ উইকেটে ১১২ রান। খাদিজাতুল কুবরা ও রুমানা আহম্মেদ দুটি করে উইকেট নেন।

জবাবে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ঢংয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশের নারীরা। ভারতের স্পিন জাদুকর পুনম যাদবের গুগলির কাছে আত্মসমর্পনের আগে দলকে ৮৪ রানের মূল্যবান স্কোর এনে দেন চার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

 

শেষ ওভারে জয়ের জন্য সালমাদের দরকার ৯ রান। প্রথম তিন বলে আসে ৬ রান। জয়টা তখন মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে মনে হয়। তবে চতুর্থ বলে ছয় হাঁকাতে গিয়ে বেদা কৃষ্ণমূর্তির হাতে ধরা পড়েন সানজিদা। বাংলাদেশ শিবিরে তখন খানিকটা আতংক। পরের বলে দ্বিতীয় রানের জন্য দোদুল্যমান হওয়ার কারণে দু:খজনকভাবে আউট হন রুমানা। তার সংগ্রহ ২৩ রান।

শেষ বলে দরকার দুই রান। গ্যালারিতে তখন পিনপতন নিরবতা, টানটান উত্তেজনা।  মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ঝলসে ওঠে জাহানারার ব্যাট। দ্রুত দুইবার স্থানবদল। তারপরই বাধভাঙা উচ্ছ্বাস। অবিশ্বাস্য এক জয়ের সাক্ষী হয়ে থাকে মালয়েশিয়ার কিনরারা স্টডিয়াম।

ম্যাচ সেরা বাংলাদেশের রুমানা আহমেদ ও আসর সেরা ভারতের হারমানপ্রিত। রূদ্ধশ্বাস সেই জয়ের শেষ বলটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন আফগানস্তিানের কাছে ধবল ধোলাই হওয়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। বাঘিনীদের এই শিরোপার আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছেন তামিম-মাশরাফিরাও।

 

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment