২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাবিত ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সামগ্রিকভাবে ঘাটতি থাকছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা; যা জিডিপির ৪.৯ শতাংশ। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

রেকর্ড টানা দশম বাজেট ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার ১২তম এবং দেশের ৪৭ তম বাজেটের শিরোনাম সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ।

স্পিকারের অনুমতি নিয়ে, বাজেট বক্তৃতার শুরুতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের পদক্ষপে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। সেইসঙ্গে বিগত নয় বছরে সরকারের সফলতাও জানান তিনি।

আসছে অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে রাখতে, ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটির বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। যা আগের বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৯৩ হাজার ৭৮ কোটি টাকার বেশি।

বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। যারমধ্যে এডিপিতে বরাদ্দ এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। আর অনুন্নয়ন বা পরিচালন ব্যয় ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি। এতে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৪.৯ শতাংশ।

নির্বাচনি বছরে সব শ্রেণি পেশার মানুষকে খুশি করার চেষ্টা করেছেন অর্থমন্ত্রী। নেই বর্ধিত করের চাপ। এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করা, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু; সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ সুবিধা; মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা বিশেষ সম্মাননা ভাতা; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৪ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বাজেটে।

এর আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়।

 

 

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment