জীবন যাবে স্যার তবুও মামলা ছাড়া গাড়ি যাবে না

রাস্তায় যানজট সৃষ্টির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়দানকারী সচিবের গাড়িতে মামলা দিলেন পুলিশ। এ সময় ওই কর্মকর্তা রাগান্বিত হয়ে সিভিল পোশাকে থাকা রমনা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শকের নাম জানতে চান। তখন এই কর্মকর্তার নিজের ভিজিটিং কার্ড এগিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি আমাকে দেশের যে কোনো জায়গায় বদলি করতে পারেন।

পরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়দানকারী ব্যক্তির নাম ওমর চাঁন বনিক। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও মন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর পিএস। অবৈধভাবে পার্কিং করা ঢাকা মেট্রো-গ- ৩১- ৫৭১৩ নম্বরের গাড়িটি তার ব্যক্তিগত।

একজন ট্রাফিক পরিদর্শকের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও হুমকি-ধমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সাহসী পদক্ষেপের জন্য এ পুলিশ কর্মকর্তাকে স্যালুট জানিয়েছেন অনেকেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপসচিব ওমর চাঁন বনিক।

ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার দুপুরের। ঘটনাস্থল রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে। বাংলাদেশ পুলিশের সাহসী ওই কর্মকর্তার নাম তরিকুল ইসলাম সুমন। নিজের ফেসবুক ওয়ালে কয়েকটি ভিডিওসহ পুরো কাহিনি তুলে ধরেন তিনি।

পাঠকের জন্য ওই পুলিশ কর্মকর্তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

একটু আগের ঘটনা। বাচ্চাকে স্কুল থেকে পিক করার জন্য ৭/৮নং গেটের কাছে আসলাম, দেখি প্রচণ্ড জ্যাম, কারণ গাড়িওয়ালারা তিন লাইন করে পার্ক করে রাস্তা বন্ধ করে বসে আছে আর উনাদের বাচ্চারা স্কুলগেটে কিছু খাচ্ছে অথবা স্কুলেই খেলায় মগ্ন।

এদিকে আমার মতো রিকশার যাত্রীরা অনবরত ট্রাফিক পুলিশকে গালি দিতে থাকল। মেজাজ ঠিক রাখতে না পেরে সিভিল ড্রেসে একাই তৃতীয় সারির দশটি গাড়ির কাগজ নিয়ে বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে সার্জেন্টকে কল দিয়ে নিয়ে আসলাম মামলা করানোর জন্য।

বিপত্তি বাধল এক সচিব স্যারকে নিয়ে। উনি নিজেকে পিএম-এর পিএস বলে পরিচয় দিচ্ছেন, যদিও আমি তা যাচাই করে দেখিনি। উনি মামলা তো দূরের কথা, গাড়ির কাগজই দেবেন না, আমি যা পারলে করি।

আমি উনাকে বারবার স্যার সম্বোধন করে বলি যে উনাকে আমি ছাড়লে সবাইকে ছাড়তে হবে, নইলে বাকি নয়জনের কাছে পরকালে হলেও জবাবদিহি করতে হবে, তাই উনাকে ছেড়ে দিয়ে সেই পাপের দায়ভার নিতে পারব না। উনি আমার ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে যাবেন এই অবস্থা।

আমিও নাছোড়বান্দা, বললাম আমার লাশ পড়লেও আপনাকে মামলা নিয়ে যেতে হবে। উনি খুব গরম দেখাচ্ছিলেন, তাই আমি পথচারীকে ভিডিও করতে বলি, উনার গরম তখন পালাল, আমি ৯০০ টাকা জরিমানা করলাম।

উনি আমার নাম জানতে চাইলে আমি এক ডিগ্রি এগিয়ে নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে সালাম দিয়ে বললাম, ‘Sir, you can transfer me anywhere of Bangladesh’ আমি রাস্তার কামলা, কামলাই থেকে যাব, বেতন এক টাকাও কমবে না। আপনি যদি ভদ্রভাবে পরিচয় দিয়ে বলতেন, আমি পিএম-এর পিএস, আজকের মতো আমাদের সবাইকে ছেড়ে দেন। আর কোনো দিন এভাবে গাড়ি রাখব না। আমি আপনাকেসহ সবাইকে সসম্মানে ছেড়ে দিতাম, কিন্তু আপনি ক্ষমতা দেখিয়ে শুধু আপনারটাই ছাড়াতে চাচ্ছেন, অন্য কারোটা নয়। অথচ আপনারা সবাই একই অপরাধে অপরাধী। বাকি সবাইকেও ৯০০ টাকা করেই জরিমানা করেছি। এবার মনে হয় ঢাকার বাইরে পোস্টিংটা খুব দ্রুতই হবে…!!!

আমি অমুক, আমি তমুক, এই পরিচয়ে এক্সট্রা প্রিভিলেজ পাওয়ার চিন্তাটা আমরা বাদ দেব কবে? কেন অপরাধ করে তার পানিশমেন্টটা আমরা নিতে চাই না…? (বি.দ্র. এই পোস্টগুলো সস্তা লাইক বা বাহবা পাওয়ার জন্য দেয়া হয় না, এগুলো দেয়া হয় আমার স্বজাতীয়দের ক্ষয়ে যাওয়া মেরুদণ্ড সোজা করার জন্য।)

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রমনা ট্রাফিক পুলিশের এই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সুমন।

জীবন যাবে স্যার তবুও মামলা ছাড়া গাড়ি যাবে না স্যার।।

জীবন যাবে স্যার তবুও মামলা ছাড়া গাড়ি যাবে না স্যার।।

Posted by Dainik Sokal on Saturday, April 21, 2018

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment